লিড জেনারেশন করে অনলাইনে উর্পাজনের সবচাইতে সহজ প্রদ্ধতি

 

লিড জেনারেশন 

#LeadGeneration লিড জেনারেশন এক ধরনের পদ্ধতি যার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতার  বা ট্রারগেটের ইমেল,  ফোন নম্বর, ফেসবুক আইডি এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর সাহায্যে গ্রাহকের চাহিদার বিষয়গুলি জানা যায় এবং তাদের সামনে সেরকম প্রোডাক্ট তুলে ধরা যায়।

আর আমরা লিড জেনারেশন মার্কেটিং বলতে বুঝাবো আমাদের কোন ক্লাইয়েন্টের প্রয়োজনীয় বা সাম্ভাব্য ট্রারগেট বা ক্রেতার , ইমেল আইডি, ফেসবুক আইডি , মোবাইল নাম্বার ইত্যাদি খুজে দেওয়া।

 

 

লিড তৈরির জন্য কী করতে হবে?

লিড জেনারেশনের জন্য আমাদের বিভিন্ন ভাবে ক্রেতার বা ট্রারগেটের ইমেল আইডি, ফেসবুক আইডি বা ফোন নম্বর খুজে দিতে হবে । এই ক্ষেত্রে বায়ারের চাহিদা মত আমাদের খুজে দিতে হবে, যেন বায়ার একবের মাধ্যমেই গ্রাহকে ট্যাগ করা যায়, নোটিফিকেশন পাঠানো যায়। বিভিন্ন অফার সংক্রান্ত তথ্যও পাঠানো যায়।

 

বায়ারের লিড কি কাজে লাগে।

নোটিফিকেশন-

অনেকে আপনার থেকে তথ্য পাওয়ার জন্য এই পরিষেবা নিতে চায়। ধরুন আপনি একটি বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করেছেন। আর আপনি স্থির করতে পারছেন না কোন বাড়ি নেবেন। তার জন্য আপনার সাহায্য চাই। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে যেগুলি করতে হবে সেগুলি হল

বাড়ি ক্রয়-

বিক্রয়ের নির্দিষ্ট সাইটে গিয়ে আপনাকে  আপনার ইমেল ফোন নম্বর,  লোকেশন শেয়ার করতে হবে। মেল বা ইমেলের মাধ্যমে আপনাকে লোকেশনের ব্যাপারে কনফার্ম করতে হবে। তারপর আপনি অ্যাপার্টমেন্টের সাইট দেখতে যেতে পারেন। আপনার প্রশ্নের সমস্ত উত্তর দেওয়ার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ আপনার সঙ্গে থাকবে। অন্য লোকেশনে অ্যাপার্টমেন্ট চাইলেও সে আপনাকে সাহায্য করবে। কোনও একটি জিনিস মানুষকে কিনতে বাধ্য করা বা কোনও একটি জনিসের প্রতি বেশিক্ষণ মানুষের আকর্ষণ ধরে রাখা সহজ কাজ নয়।

পুরোনো পদ্ধতি অতীত

একটা সময় ছিল যখন একসঙ্গে একাধিক গ্রাহকের জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি করা হত। কিন্তু বর্তমানে আলাদা আলাদাভাবে সকলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন চাহিদা বুঝে তাদের সেই অনুযায়ী প্রোডাক্ট পরিবেশন করতে হয়। আপনি আপনার সঠিক টার্গেট অডিয়েন্স বেছে নিয়ে তারা আপনাকে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে খুঁজে নেবে। আপনি সেই সময় সম্ভাব্য গ্রাহকের থেকে ইমেল ফোন নম্বর চাইবেন। সে সেটি দিলেই আপনি সবসময় তার চাহিদার ওপর নজর রেখে সেইমতো প্রোডাক্ট সাজেস্ট করবেন।

 

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে লিড কীভাবে তৈরি করবেন

ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে লিড জেনারেশন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথমদিকে অল্প সময়ের জন্য মার্কেটিংয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত লিড জেনারেট করা।

 

) ওয়েবিনারস

এটি কমিউনিকেশনের অন্যতম মাধ্যমে যেখানে একই সময়ে অনলাইন ভিউয়ারস অরগানাইজাররা থাকে। এটা একেবারেই ব্যায়বহুল নয়। এখানে ভিউয়ারস অরগানাইজাররা তথ্যের আদানপ্রদান করতে পারে। সকলে লাইভ থাকার কারণে খুব তাড়াতাড়ি সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আসে।

) -বই/কেস স্টাডি/ ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্ট

বর্তমানে পাঠকরা কম খরচে কম সময়ে ভালো কিছু পেতে চান। সেখানে বই একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। বিভিন্ন বই পড়া বা পিডিএফ ডাউনলোডের বিনিময়ে আপনি পাঠকদের থেকে ইমেল,  ফোন নম্বরের মতো তথ্য চাইতে পারেন। Lead Generation

) নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট

বর্তমানে সবকিছুই ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে আপনি কখনই নেটওয়ার্কিং ইভেন্টকে উপেক্ষা করতে পারবেন না। আপনার কাছে আকর্ষণীয় অফার থাকলে সেটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন। স্পিচ তৈরি করে ভিডিও শেয়ার করুন। সেখানে গ্রাহকদের থেকে তথ্য চান।

) ফ্রন্ট এন্ড প্রোডাক্ট ক্রয়

কম দামে কম রিস্কে জিনিস বিক্রি করতে পারেন। নতুন গ্রাহকরা কখনই একটি জিনিসের পিছনে বেশি ক্রয় করতে পছন্দ করে না। সেক্ষেত্রে লাভ না রেখে কম দামে জিনিস বিক্রি করে গ্রাহকদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারলেই আপনার লিড জেনারেশনের কাজ হয়ে যাবে।

) ইনবাউন্ড ফোন কল

যদি কোনও গ্রাহক নিজে থেকেই আপনার কোনও প্রোডাক্টের ব্যাপারে ফোন করে তাহলে বুঝবেন সে সেটির বিষয়ে আগ্রহী। তাই তখনই গ্রাহকের ইমেল আইডি, নাম, ফোন নম্বর জেনে নিন। পরবর্তীকালে সেটি আপনার কাজে আসবে।

লিড জেনারেশনের পর কী করবেন?

লিড জেনারেশনের পর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সেই সমস্ত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা। ড্রিপ মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে এই কাজটা সহজ হয়। একরাতের মধ্যেই আপনার একাধিক গ্রাহক তৈরি হয়ে যাবে না। আপনাকে সেকারণে সম্ভাব্য গ্রাহকদের আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে অবগত করতে হবে। যেমন আমি আমার ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কোর্সের মাধ্যমে লিড জেনারেট করেছি। তার মানে এই নয় যে সকলে ফ্রি-তে পরিষেবা পাওয়ার পর পরবর্তীকালে পয়সা দিয়ে কোনও কোর্স করবে। তবে তার জন্য আমায় গ্রাহকদের সঠিকপথে চালিত করতে হবে। গ্রাহকরাই ঠিক করে দেবে কখন আমায় পেইড কোর্স চালু করা উচিত।

 

লিড নার্চারিং 

সম্ভাব্য গ্রাহককে গ্রাহকে পরিণত করতে গেলে আপনাকে লিড নার্চারিং করতে হবে। এর মাধ্যমেই আপনার ব্যবসায় সফলতা আসবে। সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়তে পারলে তবেই তারা একদিন আপনার গ্রাহক হবে। তবে এর জন্য আপনাকে ধৈর্য্য ধরে থাকতে হবে। আর সঠিক সময়েই তাদের সামনে পেইড অফার উপস্থাপন করতে হবে।

 

সম্পর্ক তৈরি করুন

প্রাথমিক মেলে আপনি গ্রাহকদের নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বলুন। তাদের চাহিদা আপনার সঙ্গে শেয়ার করতে বলুন। তার সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশুন।

ভালোভাবে প্রতিক্রিয়া দিন

আপনি যদি সম্ভাব্য গ্রাহকের থেকে কোনও প্রশ্ন বা মতামত পান তাহলে সেটি ভালোভাবে পড়ুন। তার আসল পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। তারপর প্রতিক্রিয়া দিন।

শোনার ক্ষমতাকে বাড়ান

গ্রাহকদের বেশি করে বলতে দিন। তারা যত বেশি বলবে তাদের চাহিদা বুঝতে সুবিধা হবে।

শূন্যতা পূরণ করুন

গ্রাহকদের ভুল ধারনা বা অবুঝ মনোভাবকে দূর করুন। যেমন যখন কেউ ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ব্যাপারে ফ্রিতে কিছু শেখার জন্য সাইন আপ করবে তখন আমার দায়িত্ব বিভিন্ন ব্লগ ইমেলের মাধ্যমে ডিজিট্যাল মার্কেটিং সম্পর্কে তাঁর প্রশ্ন ভুল ধারনা মিটিয়ে সঠিক পথে চালিত করা।

জড়িত থাকা

সম্ভাব্য গ্রাহক বা গ্রাহকদের থেকে প্রতিক্রিয়া নিন। একপক্ষ শুধু কিছু বলে গেলে তার দ্বারা লক্ষ্য পূরণ হয় না। বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের আপনার সঙ্গে আরও জড়িয়ে ফেলুন। বিভিন্ন আকর্ষণীয় জিনিস নিয়ে ইমেল বা ফোনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেন।

সম্ভাব্য গ্রাহক থেকে গ্রাহক কীভাবে করব?

আপনি ১০০ শতাংশ সম্ভাব্য গ্রাহকই যে গ্রাহকে পরিণত হবে তার আশা করবেন না। কিন্তু কেউ না হলে সেক্ষেত্রে আপনার অর্থ, সময় সবই নষ্ট হবে। তাই কিছু জিনিস মাথায় রাখুন-

) ইউজারের ওপর নজর রাখুন

ইউজারদের ওপর নজর রাখতে ভালো করে গুগল অ্যানালেটিক রিপোর্ট খেয়াল করুন। আপনার পারফরম্যান্সকে ভালো করতে সেইসব তথ্য খুবই কাজে দেবে।

) ইমেল ফোন কল ব্যবহার করুন

অনেক সময় গ্রাহকরা আপনার অফার শুনতে চান কিন্তু সেই মুহূর্তেই কিনতে চান না। তাই তাদের আগ্রহ বাড়াতে ফোন বা মেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন। অফার দিন। সেটি গ্রহণ না করলে কী ক্ষতি হতে পারে তা সম্ভাব্য গ্রাহককে বোঝান। Lead Generation

) লিড স্কোরিং ব্যবহার করুন

কারা কিনতে পারে আর কারা খালিভেবে দেখছিকরে এধরনের গ্রাহকদের আলাদা করুন। রিসার্চের মাধ্যমে আপনি এটি করতে পারবেন। বিশেষ বিশেষ সময়ে বা সপ্তাহের শেষে তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করুন যাদের জিনিস ক্রয়ের সম্ভাবনা বেশি।

 

শেষ কথা-

সবসময় গ্রাহকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন। তাদের বোঝান তারা যদি বিনামূল্যেই এত ভালো কিছু পান তাহলে পয়সা খরচ করলে তারা আরও কত ভালো কিছু পেতে পারেন। সবসময় তাদের বলুন তাদের যেকোনও সমস্যায় আপনি তাদের পাশে রয়েছেন।